লাইব্রেরীদের গল্প

লাইব্রেরীর গল্প একটু বলাই উচিত । গাইবান্ধা থানাপাড়ার লাইব্রেরী, ক্যাডেট কলেজের লাইব্রেরী, সেই ক্লাস নাইনে থাকতে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরী, ১৯৮৮-৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সেই হাজার হাজার বইয়ের মধ্য দিয়া হাঁটিবার শিহরণ ( আমার খালু ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর চাকুরীর কারণে সুযোগ হয়েছিল ), বগুড়ার জলেশ্বরী তলার সেই গণগ্রন্থাগার, NAEM এর লাইব্রেরী যেখান থেকে বংকিম, বিভূতিভূষণ, তারাশংকর রচনাবলী পড়িয়া মুগ্ধ হয়েছি ।পাঠকের মনোযোগে / আকর্ষণে একটুও ব্যাঘাত না ঘটিয়ে শুধু পাতার পর পাতা প্রকৃতির বর্ণনা কিভাবে দেয়া সম্ভব তা বিভূতিভূষণ না পড়িলে কি অনুধাবন করা সম্ভব ।

NAEM-এ (জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি) মনে হয় প্রথম তারা তারাশংকরের সাথে পরিচয় । তাহাঁর ছোট গল্প ( ঈষৎ বড় ) পড়িয়া মনে হইয়াছে, – ইহাকেই বলে ছোট গল্প। আহা!! বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক তো তারাশংকর মশাইকেই বলা উচিত । পাঠক আমি অবাক হইয়াছি, হুমায়ুন আহমেদ তাহাঁর কোন এক বইয়ে একি মত পোষণ করিয়াছেন দেখিয়া ।

মিরপুর ২ এর একটি লাইব্রেরী কথা ভাল মনে আছে । যেখানে ১০০ টাকা চাঁদা দিয়ে সেই ১৯৯৩-৯৪ সালে মেম্বার হইয়াছিলাম । শামসুল হকের বই, হুমায়ুন আহমেদের অনুবাদ গ্রন্থ ‘অমানুষ’, Dr Jekyll and Mr Hyde আরও কত কিছু পড়িয়াছি মনে করিতে পারিতেছিনা এ বেলা। আগারগাও জাতীয় আর্কাইভস এ গিয়ে পুরনো পেপারে ঢুঁ মারিয়া সেই ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭১ এর ইতিহাসে ফিরিয়াছি ।

বাবার সাথে গাইবান্ধায় থাকিতে ( তখন ক্লাস ফোর / ফাইভ পড়ি বোধ হয় ) প্রায় বাজারে যাইতাম । বাজার হতে ফিরিবার পথে স্টেশান রোডে লাইব্রেরীর দোকানে আব্বা মাঝে মাঝে থামিতেন, দোকানদার তাহাঁর পরিচিত বলিয়া । সব সময় দেখিতাম দোকানদার কোন না কোন নতুন বই হাতে লইয়া গভীর মনযোগে ডুবিয়া আছেন । সেই থাকিয়া বইয়ের প্রতি, লাইব্রেরীর প্রতি অন্যরকম একটা আকর্ষণ দানা বাধিয়া উঠিল । সেই সময়ে আমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করিলাম আমি বড় হইয়া একটি বিশাল বইয়ের দোকানের মালিক হইব । আর আমার কিছু চাহিনা। সারাদিন নতুন নতুন বইয়ের সুগন্ধ লইব ( অমৃত বলিলেও বোধহয় কম বলা হইবে ) আর বই পড়িব । পড়ায় যাতে কাস্টমার ব্যাঘাত না ঘটায় তাই ছোট্ট একজন কর্মচারীও রাখিয়া দিব ।

ছোট বেলার সেই লালিত স্বপ্নকে সামনে রেখে গুটি কয়েক বছর আগে একটি উদ্যোগও ( যথারীতি আমার অনেক ব্যর্থ উদ্যোগের আর একটি বলি মাত্র ) লইয়া ছিলাম । নাম তার ” খোলা আকাশ ” । দেখি যদি কোন মনের মত উদ্যোক্তা পাই, তাহলে স্বপ্ন লইয়া আবার ছুটিবো খোলা আকাশে ।

http://kholakash.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *